• টাঙ্গাইল-১ আসন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক: শক্তিশালী প্রার্থী না থাকায় একরকম প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী ও কর্মী সমর্থকরা প্রচারণায় সরব নেই। ফলে ভোটারদের মধ্যে নির্বাচনী আমেজ না থাকলেও নির্বাচনের প্রচারণায় থেমে নেই প্রার্থীরা। মধুপুর ও ধনবাড়ী উপজেলা নিয়ে গঠিত টাঙ্গাইল-১ আসনে বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলে এমন চিত্র পাওয়া গেছে। মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের নেতাকর্মীরা নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ড. আব্দুর রাজ্জাকের পাশে নেই। এতে বেকায় পড়েছেন তিনি।

 

মধুপুর বাসস্ট্যান্ড ও আশপাশের এলাকায় দুই তিনজন প্রার্থীর পোস্টার দেখা গেলেও নির্বাচনী আমেজ তেমন তেমনই। আনারস ভাষ্কর্যের মোড়ে এবং বাসস্ট্যান্ড ব্রিজের পাশে কয়েকটি নৌকার পোস্টার টাঙ্গানো রয়েছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ন স্থানে কিছু নৌকা, ট্রাক, গামছা ও লাঙ্গলের পোস্টার দেখা গেছে। অন্যদিকে ধনবাড়ীতে নৌকার পোস্টারই বেশি দেখা গেছে অন্যান্য প্রার্থীদের চেয়ে। তবে ভোটারদের মধ্যে ভোট নিয়ে তেমন আগ্রহ দেখা যায়নি।

 

 

ভোটাররা মনে করেন, নির্বাচনে মধুপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবু অংশগ্রহণ করলে নির্বাচনী উত্তাপ থাকতো এই আসনে। এতে ড. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে ছরোয়ার আলম খান আবুর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতো।

 

অন্যদিকে মধুপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্বের জেরে বিভক্ত নেতাকর্মীরাও ভোটের মাঠে সরব নেই। আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীক চেয়েছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু। কিন্তু প্রতীক না পাওয়ায় তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি।

 

সম্প্রতি নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা ও মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ এনে মধুপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি ও সাধারণ সম্পাদক ছরোয়ার আলম খান আবুসহ চারজনকে আনাস্থা দিয়েছে কৃষিমন্ত্রীর অনুসারী উপজেলা আওয়ামীলীগের একাংশ। পরে নৌকা প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণায় বাঁধা ও মঞ্চ ভাঙচুরের অভিযোগ এনে তাদেরকে অনাস্থা দেওয়া হয়। তারা হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খন্দকার শফি উদ্দিন মনি, সাধারণ সম্পাদক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা খান বাবলু ও শিক্ষা সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক শামসুল আরেফিন শরীফ।

 

টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন সাবেক এমপি ট্রাক প্রতীকের খন্দকার আনোয়ারুল হক (স্বতন্ত্র), জাতীয় পার্টির (লাঙ্গল) প্রতীকের সার্জেন্ট (অব:) মোহাম্মদ আলী ও কৃষক শ্রমিক জনতালীগের গামছা প্রতীকের ফারুক আহমেদ নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা করছেন।

 

জানা গেছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মধুপুর ও ধনবাড়ীতে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই না থাকলেও কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক নিয়মিতই সভা-সমাবেশ করে যাচ্ছেন। অন্য প্রার্থীরাও ভোট প্রার্থনা করছেন ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে। মধুপুরে আওয়ামী লীগের কোন্দলকে কাজে লাগাতে চায় অন্য প্রার্থীরা।

 

 

মধুপুর বাজার এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, এবার ভোট নিয়ে তেমন আলোচনা বা কোন প্রার্থী নিয়ে সমালোচনা নেই। এই আসনে শক্তিশালী কোন প্রার্থী না থাকায় নৌকা এক রকম একতরফাভাবে নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এলাকায় তেমন পোস্টারও নেই। গ্রামাঞ্চলেও তেমন পোস্টার নেই। দুই একজন প্রার্থীরা আসছে ভোট চাইতে।

 

মধুপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার চা বিক্রেতা ইয়াকুব বলেন, নির্বাচনী আমেজ তেমন নেই ভোটারদের মধ্যে। বিগত সময়ে চায়ের দোকানে আলোচনা হতো প্রার্থী ও নির্বাচনের ভোট নিয়ে। চা বানাতে ক্লান্ত হতাম। কিন্তু এবার তেমন ভোট নিয়ে আলোচনা নেই নির্বাচনী ক্রেতাও নেই। স্বাভাবিক দিনের মতই বেচাকেনা হচ্ছে।

 

রিকশা চালক ইদ্রিস হোসেন বলেন, প্রচার তেমন নেই প্রার্থীদের। বিগত সময়ে পোস্টারেই ছেড়ে যেত মধুপুর বাজার বাসস্ট্যান্ড। অথচ এবার নির্বাচনে ভিন্ন দেখছি। মানুষের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে কোন আগ্রহ নেই। বিএনপিরা ভোট দিতে না গেলে ভোটার তেমন পাওয়া যাওয়া যাবে।

 

আরেক রিকশা চালক রফিক বলেন, মাইকের প্রচার কমেছে পোস্টার নেই বিভিন্ন জায়গায়। দুই একজনের প্রার্থীর মাইকিং শুনলেও বাকিদের তেমন শোনা যায় না। দল বেঁধে কাউকে ভোট চাইতে যেতে দেখছি না। কেমন যেন নিরব ভোট প্রচারণা চলছে।

 

 

মধুপুরে আলোর ভূবন আদর্শ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোশী চাম্বুগং বলেন, বন এলাকায় কোন প্রার্থীর পোস্টার তেমন নেই। কোন প্রার্থীকে তেমন দেখা যায়নি। কারোর মধ্যে ভোট নিয়ে তেমন উৎসাহ উদ্দীপনা নেই।

 

এই আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৬৫৩ ভোট। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১৭ হাজার ১৭০টি এবং নারী ভোটার রয়েছে ২ লাখ ১৬ হাজার ৪৮২টি।

 

ওজি