বিশেষ প্রতিবেদক: সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ৩ জন গিয়েছিলেন রাশিয়া। সেখানে পৌছানোর পর প্রতারণার শিকার হয়ে তাদের পাঠানো হয় রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধে। আর সেখানেই ড্রোন হামলায় তাদের মৃত্যু হয় বলে দাবী পরিবারের। মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর থেকেই নিহতদের পরিবারে চলছে শোকের মাতম।
প্রশাসন বলছে এরকম কোন তথ্য নেই তাদের কাছে ৷ আর অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের পররাষ্ট্রনীতি দুর্বলতার কারণে এমন ঘটনা ঘটছে।
কথা ছিল রাশিয়ায় গিয়ে একসঙ্গে যাওয়া ৩০জনকে দেয়া হবে কন্সক্ট্রাশনের কাজ। কিন্তু দালাল আর এজেন্সি তাদের তুলে দিয়েছে রাশিয়ার আর্মির এজেন্টের কাছে। পরে রাশিয়ায় আর্মিরা যুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেয় তাদের। পরে ৩০জনকে কয়েকটি ভাগে ভাগ করে নিয়ে যাওয়া হয় ক্যাম্পে।
এদিকে একই সাথে থাকা জামালপুরের আরমান একজনের সাথে অডিও কথা বলে জানান তার সাথে থাকা ১২জনের মৃত্যু হয়েছে। সেসহ আহত হয়ে ৪জন হাসপাতালে। তাদের চিকিৎসা না করা এবং যুদ্ধে না যাওয়ায় অত্যাচার করছে।
এই কান্না রাশিয়ায় নিহত আমিনুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি বেগমের। ঋণ করে ৮লাখ টাকা খরচ করে রাশিয়া যাওয়ার পর স্বামীর মৃত্যুর সংবাদে দিশেহারা তিনি।
রাশিয়ায় নিহত আমিনুল ইসলামের স্ত্রী বিউটি বেগম বলেন, ঋণদাতাদের চাপ ও ছোট ৩ সন্তান নিয়ে কিভাবে সংসার চালাবেন তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় তিনি।
আমিনুলের সাথে রাশিয়া গিয়েছিলেন পাশ্ববর্তী গ্রামের নজরুল ইসলাম ও পবিত্র সুত্রধর । দীর্ঘদিন যাবত নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করতে না পেরে কান্না যেন থামছেই না মা ফাতেমা বেগমের।
পবিত্র চন্দ্রের পরিবারের চিত্রও করুন। টাঙ্গাইলের গোপালপুরের এই ৩ পরিবার এখন শোকে স্তম্ভ।
গত মাসের ৭মে জাবাল-ই-নূর এজেন্সির মাধ্যমে রাশিয়ায় যান গোপালপুরের দক্ষিণ পাথালিয়া এলাকার মৃত কছর উদ্দিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম, বীর নলহরা এলাকার মৃত ইসমাইলের ছেলে নজরুল ইসলাম ও মজিদপুর এলাকার পরেশ চন্দ্র সূত্রধরের ছেলে পবিত্র চন্দ্র।
গেল মাসের ২৯ তারিখে সর্বশেষ পরিবারের সাথে কথা হলে তারা জানান ৪৮ঘন্টার মধ্যে তাদের উদ্ধার করা না হলে যুদ্ধে পাঠানো হবে। এরইমধ্যে শেষ হয়েছে তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ। পরে
নিহতের পরিবাররা জানায়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করলে তারা উদ্ধারের আশ্বাস দেয়া হয়। মৃত্যুর সংবাদের পর থেকে তারা ফোন রিসিভ করছেন না বলে দাবি নিহতের পরিবারের।
স্থানীয়রা জানান, রাশিয়া যাওয়ার জন্য ওই এলাকার অনেকেই টাকা জমা দিলেও এই ঘটনার পর থেকে দুশ্চিন্তায় তারা। ভাগ্যবদলের আশায় স্ত্রী, শিশু সন্তান ও বৃদ্ধ বাবা-মা রেখে যাওয়ায় পরিবারগুলোতে দেখা দিয়েছে অন্ধকার।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) মো. সেলিম মিঞা বলেন, এধরনের কোন তথ্য নেই। পরিবার থেকে জানালে সব ধরনের সহায়তা করা হবে।
মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. উমর ফারুক বলেন, এটাতে রাশিয়া আন্তর্জাতিক অপরাধ করছে। তারা প্রতারণা করে দেশ থেকে লোকবল নিয়ে যুদ্ধে নিয়োজিত করছে। জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় করা উচিত সরকারের।
টাঙ্গাইলের ৩জনসহ ৩০জন বাংলাদেশীকে রাশিয়া নিয়ে জোরপূর্বক সেনাবাহিনীতে পাঠানো হয়েছে বলে বলে দাবি পরিবারের ।
