রেজাউল করিম: টাঙ্গাইল তাঁতশিল্পের ঐতিহ্য ধরে রাখতে এ শিল্পের পাশে আসছে জয়িতা ফাউন্ডেশন। বৃহস্পতিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের তাঁতপল্লী পরিদর্শন করেন জয়িতা ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।

 

এ শিল্পের নারী উদ্যোক্তা বড়াতে এবং এদের সুযোগ সুবিধা দিতে প্রতিশ্রুতি দেন ফাউন্ডেশনটি। কর্মকর্তারা তাঁতপল্লী পরিদর্শন করে তাঁতীদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেন। পরে জেলার দেলদুয়ার উপজেলার তাঁতপল্লী পাথরাইল রাজবংশী পাড়ায় নারী উদ্যোক্তাদের নিয়ে উঠান বৈঠক করেন ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।

 

পাথরাইলে তাতের শাড়ি দেখছেন কর্মকর্তারা

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সচিব ও জয়িতা ফাউন্ডেশনের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক আফরোজা খান, জয়িতা ফাউন্ডেশনের টাওয়ার নির্মান প্রকল্পের পরিচালক মো. শহিদুল ইসলাম (অতিরিক্ত সচিব), স্বক্ষমতা বিনির্মান প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ রিফাত আলী, ফাউন্ডেশনের পরিচালক-২ নিপুণ কান্তি বালা, পরিচালক-৩ ইয়াসমিন আক্তার। এছাড়া দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. শাকিলা পারভীন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রশান্ত বৈদ্য, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা দেওয়ান খায়রুন নাহার, পাথরাইল ইউপি চেয়ারম্যান রাম প্রসাদ সরকার উপস্থিত ছিলেন।

 

সেই সুদীর্ঘ সময় ধরে নারীর প্রথম পছন্দ টাঙ্গাইলের তাঁতের শাড়ি। দেশীয় শিল্পিদের নিপূন হাতে তৈরি মসলিন কাপড় দেশী-বিদেশী রমনীদের নজর কেড়েছিল। সময়ের বিবর্তনে পূরনো মসলিনের কথা আধুনিক নারীদের মনে না থাকলেও বর্তমানে টাঙ্গালের তৈরি তাঁতের শাড়ি সেই মসলিনের মতই দেশী-বিদেশী রমনীদের মনে স্থান করে নিয়েছে। নববর্ষ থেকে ঈদ,পূজাসহ যেকোন পার্বন্যে নারীদের চাই নতুন শাড়ি। সুদীর্ঘ সময় ধরে নারীর প্রথম পছন্দ শাড়ীর চাহিদা পুরণ করে আসছে টাঙ্গাইল তাঁতপল্লী। ফলে প্রতি মূহুর্তই ব্যস্ত থাকতে হয় তাঁতীদেরকে। তাঁতপল্লী সব উৎসবে মূখরিত থাকে। ভোর হতে শুরু হয় তাঁতের খটখটি শব্দ। যা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে চিরচেনা। নারীদের হাতে ঘুরছে চড়কা।

 

টাঙ্গাইল সদরের বাজিদপুর,দেলদুয়ার উপজেলার পাথরাইল ও চন্ডী ও পাশ্ববর্তী এলাকা, কালিহাতীর বল্লা, রামপুরের তাঁত শিল্পে উৎপাদিত শাড়িই মুলত টাঙ্গাইল শাড়ি নামে সুপরিচিত। সুঁতো সাজানো, শাড়ি তৈরি, নকশা তৈরি, নকশা কাটা ও রপ্তানি মাধ্যমে টাঙ্গাইল শাড়ির ওপর ভিত্তি করে হাজার হাজার শিশু, নারী-পুরুষ জীবিকা নির্বাহ করে। টাঙ্গাইলে হাতে বুনানো শাড়িই মধ্যে রয়েছে, জামদানি, সুঁতি, সিল্ক, দু-তার, বালুচুড়ি,গ্যাস, দু-তার থ্রিপিচ ও থান কাপড়। নতুন নতুন আকর্ষিত নকশা আর গুণগত মান নিয়ে টাঙ্গাইল শাড়ি টাঙ্গাইলকে দেশ-বিদেশে সু-পরিচিত করিয়েছে। অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বি করেছে জেলার সাধারণ মানুষদেরকে।

 

 

অথচ গত কয়েক বছরে সুঁতাসহ শাড়ির কাঁচামালের দাম কয়েক দফায় বৃদ্ধি পাওয়া এবং করোনা ও ওমিক্রনের ধাক্কায় টাঙ্গাইলের তাঁতশিল্পের দুর্দিন যাচ্ছে। অধিকাংশ তাঁত বন্ধের উপক্রম। ঠিক এই সময়ে জয়িতার আশ^াস পেয়ে তাঁতীরা অনেকটাই ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাচ্ছেন। স্থানীয় তাঁতীরা বলছেন, এ অঞ্চলের উৎপাদিত তাঁতের শাড়ি বিক্রির সুব্যবস্থা করলে এ শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। টাঙ্গাইল শাড়ির দুর্দিনে জয়িতা ফাউন্ডেশন টাঙ্গাইল শাড়ি উৎপাদনে সহযোগিতা, নতুন ডিজাইন দেওয়া, নারী কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া, উদ্যোক্তা সৃষ্টি করা এবং উৎপাদিত শাড়ি ঢাকায় নিয়ে জয়িতা ফাউন্ডেশনের টাওয়ারে বিক্রির আশ^াস দিয়েছে ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা। জয়িতা ফাউন্ডেশন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ বাংলাদেশ সরকার একটি সংস্থা যা মহিলা উদ্যোক্তাদের অর্থায়ন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করে থাকে।

 

টাঙ্গাইল তাঁতপল্লীর শাড়ি উৎপাদন শিল্পের সভাপতি রঘুনাথ বসাক বলেন, টাঙ্গাইল শাড়ি টিকিয়ে রাখতে সরকারের কোন পরিকল্পনা ছিল না। যতোটুকু এসেছে সেটা তাঁতীদের নিজ উদ্যাগে। জয়িতা ফাউন্ডেশন সম্পৃক্ত হলে তাঁতশিল্পের জন্য অবশ্যই উপকারে আসবে। পিষ্ঠপোষকতার অভাবে টাঙ্গালের তাঁতশিল্প পিছিয়ে যাচ্ছিল। সেক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে এমন উদ্যোগ নেয়া হলে এ অঞ্চলের তাঁতীরা সার্বিক সহযোগিতা করবেন। এছাড়া টাঙ্গাইল শাড়ি বিক্রির প্রধান বাজার হচ্ছে পাশর্^বর্তী দেশ ভারত। সরকারের এমন উদ্যোগে শাড়ির বাজার পরিধিও বৃদ্ধি পাবে।

 

ওজি