নিজস্ব প্রতিবেদক, সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরে চাঞ্চল্যকর যৌন উত্ত্যক্তের ঘটনায় দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার ও আপস মিংসার দাবী না মানায় বাদী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে আওয়ামীলীগ নেতারা ইভটিজারদের পক্ষ নিয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এ ঘটনায় এলাকার সর্বমহলে নিন্দার ঝড় বইছে। দায়ীদের দল থেকে বহিঃস্কারের দাবী তুলেছে দলের অন্যান্য নেতা ও সর্বস্তরের মানুষ। এদিকে ইভটিজিংয়ের ঘটনায় পুলিশ দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে আসামীদের আটক করায় এবং সংবাদ প্রকাশ করায় সমাবেশে পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধেও মানহানীকর অশ্লীল বক্তব্য ও বিভিন্ন শ্লোগান দেয় আওয়ামীলীগের নেতারা।
পুলিশ ও ভুক্তভোগীর পরিবার এবং স্থানীয়রা জানান, এনায়েতপুর থানার গোপিনাথপুরের বাবু মির্জার মেয়ে এনায়েতপুর আইসিএল স্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী (১৫) কে ব্রাহ্মণগ্রামের বখাটে হৃদয় উত্ত্যক্ত করতো। তার স্বজনেরা বার বার নিষেধ করলেও মানেনি। গত ২৭ ফেব্রুয়ারী বিকেলে স্কুল শেষে ক্লাস থেকে বের হলে বখাটে আজিজুল হক হৃদয় এক মহিলাকে দিয়ে ডেকে এনে স্কুলের পাশে মেয়েটির হাত ধরে শ্রীলতাহানীর চেষ্টা করে। তার বাবা বাবু মির্জা এসে প্রতিবাদ করলে ঐ ইভটিজার ও তার স্বজন আওয়ামীলীগের নেতাদের বার বার মারধরের শিকার হন। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল হতে পুলিশ এসে ঐ বখাটে সহ তার আত্বীয় থানা আওয়ামীলীগর দপ্তর সম্পাদক রাশেদ উদ্দিন ভুঁইয়া, রোকন ভুইয়া সহ ৪ জনকে আটক করে। এ ঘটনায় বাবু মির্জা ৭ জন নামীয় ও অজ্ঞাত আরো ১০/১৫ জনকে আসামী করে থানায় মামলা দায়ের করে। এরপর থেকেই এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীরেগর সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সিরাজ, সাধারন সম্পাদক আজগার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আল আমিন (লালবাবু) সহ তাদের সহযোগীরা আসামীদের আদালতে নেবার পথে বাধা, অরাজকতা সৃষ্টি করে। এছাড়া মামলা প্রত্যাহার ও আপোষ মিমাংসা করতে বাদী সহ তাদের পরিবারকে চাপ দেয়। এসব ঘটনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গনমাধ্যমে প্রকাশের জের ও বাদীকে সহযোগীতা করায় থানা আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুল ইসলাম আল আমিন (লালবাবু) একুশে টেলিভিশনের স্থানীয় সাংবাদিক স্বপন মির্জাকে মেরে এলাকা ছাড়া করার হুমকি দেন। তিনি জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে একটি সাধারন ডায়রী করেছেন।
এতো কিছুর পরেও আওয়ামীলীগ নেতারা ক্ষান্ত না হয়ে মামলার বাদী, পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পুর্ব ঘোষনা অনুযায়ী সোমবার সকালে পুলিশী বাধা উপেক্ষা করে ইভটিজারদের স্বজনদের নিয়ে এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের কার্যালয় হতে খামারগ্রাম কলেজ পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল করে। সেখানে এক সমাবেশে এনায়েতপুর থানা আওয়ামলীগের সভাপতি আহম্মদ মোস্তফা খান বাচ্চু, সহ-সভাপতি রাশেদুল ইসলাম সিরাজ, সাধারন সম্পাদক আজগার আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আল আমিন (লালবাবু), খুকণী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি শাহজাহান আলী মিয়া, থানা যুবলীগের সভাপতি মনিরুল ইসলাম মোন্নাফ, প্রমুখ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, যৌন উত্ত্যাক্তের ঘটনায় আমরা মামলা না করার জন্য বলেছি। মেয়ের বাবা বাবু মির্জা ও তার ভাতিজা একুশে টেলিভিশনের সাংবাদিক স্বপন মির্জা তা শোনেননি। তাদের সাথে কেউ কোন ব্যবসা বানিজ্য করবেন না বলে হুশিয়ারী দেন এবং অশ্লীল ভাষায় বিভিন্ন মন্তব্য করেন। তারা বলেন, আমাদের আওয়ামীলীগ নেতা রাশেদ উদ্দিন ভুঁইয়া জড়িত না। তবুও তাকে আসামী করা হয়েছে। এই মামলা না তুললে আমরা আরো কঠিন আন্দোলন করবো।
থানা পুলিশ উত্ত্যক্তের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেয়ায় ওসি আব্দুর রাজ্জাকের বিরুদ্ধে হুশিয়ারী দিয়ে আওয়ামীলীগ নেতারা বলেন, আপনি দলের নেতাদের কথা না মেনে মামলার বাদীদের কথা শুনছেন। আপনি কার কথা মত চলেন দেখে নেয়া হবে। আপনি ভাল চাইলে এনায়েতপুর থানা থেকে চলে যান।
এদিকে আওয়ামীলীগ নেতাদের ইফটিজারদের পক্ষে অরাজকতা সৃষ্টির ঘটনায় এলাকা জুড়ে সর্ব মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। দায়ী নেতাদের দ্রুত দলীয় শাস্তিমুলক পদক্ষেপ দাবী করেছে এলাকাবাসী ও প্রবীন রাজনীতিবিদরা।
এ ব্যাপারে এনায়েতপুর থানা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি এ্যাড. আব্দুল খালেক জানান, আমাদের দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শিশু ও নারীদের অধিকার রক্ষায় অগ্রণী ভুমিকা পালন করছেন। বিশেষ করে ইভটিজারদের বিয়ষে আমাদের সরকার খুবই কঠোর অবস্থানে রয়েছে। সেখানে এনায়েতপুরে আওয়ামীলীগ নেতাদের এমন অবস্থান দলকেও বিতর্কিত করে। এক্ষেত্রে নীতি নির্ধারনীদের কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়া উচিৎ।
এদিকে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে এসব বিষদগার, হত্যা হুমকির ঘটনায় জেলার সকল সংবাদকর্মীরা নিন্দা জানিয়েছে।
অপরদিকে মামলার বাদী বাবু মির্জা অভিযোগ করে জানান, ইভটিজার সহ মামলার আসামীরা কেউ কেউ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী নেতাদের আত্বীয় হওয়ায় মামলা প্রত্যাহার করতে শুরু থেকেই চাপ সৃষ্টি করছে। তাদের অযৌক্তিক দাবী না মানায় আমার ভাতিজা সাংবাদিক স্বপন মির্জা ও আমাদের পরিবার সহ চরম ভাবে আতংক হয়রানীর মধ্যে দিন কাটাচ্ছি। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমি দ্রুত যথাযথ পদক্ষেপের আকুতি যানাচ্ছি।
বিষয়টি নিয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, এলাকা জুড়ে অন্যায় ভাবে বিশৃঙ্খলা ও জনমনে ভয়-আতংক সৃষ্টির জন্য এসব করা হচ্ছে। এছাড়া তারা অযৌক্তিক ভাবে পুলিশ ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কথা বলছেন।
ওজি
