মধুপুর সংবাদদাতা: টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অনিয়ম, সুক্ষ কারচুপি ও ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচন দাবি করেছেন পরাজিত প্রার্থী ছরোয়ার আলম খান আবু।
শনিবার (১১ মে) দুপুরে মধুপুরের থানা মোড়ে তার নিজ বাসভবনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবি জানান পরাজিত উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু খা। এসময় মধুপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মাসুদ পারভেজ, ব্যবসায়ি নেতা মীর জহির উদ্দিন বাবর, ধনবাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চতুর্থ স্থান অধিকারী প্রার্থী মেহেদী হাসান রনিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
গত ৮মে মধুপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ওই নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী আনারস প্রতীক নিয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি হলেন উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ছরোয়ার আলম খান আবু। তিনি নির্বাচন পরবর্তী তৃতীয় দিনে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই অভিযোগ তোলেন।
সংবাদ সম্মেলনে ছরোয়ার আলম খান আবু লিখিত বক্তব্যে বলেন, বিভিন্ন কেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারগণ জাল ভোট জাল ভোট দিতে সহযোগিতা করেছে। মধুপুরের ২৫-৩০টি কেন্দ্রে দোয়াত-কলমের এজেন্ট বের করে দেওয়া হয়েছে। এজেন্টদের বুথ পরিবর্তন করে দেওয়া হয়েছে। শোলাকুড়ি ও ফুলবাগচালা ইউনিয়নে ব্যাপক হারে জাল ভোট দেওয়া হয়েছে। কোন কোন ক্ষেত্রে রাতেই ছিল মেরে রাখা হয়েছে। প্রায় প্রতিটি বান্ডিলে ২০/৩০টি করে দোয়াত কলম ও হোন্ডার ভোট দিয়ে বান্ডিল করা হয়েছে। ভোট গণনার আগেই ফলাফল শিট মনগড়াভাবে লিখে ফেসবুকে দেওয়া হয়েছে। এই কাজে স্থানীয় এমপি নগ্নভাবে প্রশাসনযন্ত্রকে তার পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে ব্যবহার করেছেন। এই সকল ত্রুটি বিচ্যুতি এবং অনিয়মের অভিযোগ এনে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনঃনির্বাচনের দাবি করেন তিনি।
ছরোয়ার আলম খান আবু আরো বলেন, নির্বাচনের পর থেকেই দোয়াত কলমের কর্মীদের উপর হামলা মারধর করা হচ্ছে। বিভিন্ন ইউনিয়নের ২০টি স্থানে হামলা, ভাঙ্গচুর ও লুটের বিষয় উল্লেখ করে বিএনপি জামাতের নৈরাজ্যের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা চলমান রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় মধুপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র মাসুদ পারভেজ বলেন, রিটার্নিং অফিসার প্রতিটি প্রার্থীর জন্য লেভেল প্লেইন ফিল্ড তৈরির পরিবর্তে একটি প্রার্থীকে বিজয়ী করতে কাজ করেছেন।
বিভিন্ন স্থানে হামলা ভাঙচুরের ব্যাপারে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোল্লা আজিজুর রহমান বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর থেকেই আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সুন্দর রাখার জন্য গ্রামে গ্রামে টহল ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশ করা হচ্ছে। থানায় একটি অভিযোগ হয়েছে। আমরা আইনগত সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।
ওজি/প্রটা
