নিজস্ব প্রতি‌বেদক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে বহিরাগতদের দিয়ে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশকে কেন্দ্র করে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে। পরে বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

 

সোমবার (১৫ জুলাই) দুপুরে উপজেলার অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এরআগে প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম বিদ্যালয়ে প্রবেশ করায় শিক্ষার্থীরা তার বিরুদ্ধে স্লোগান দেয়। এসময় তারা ওই প্রধান শিক্ষককে প্রত্যাহারসহ শাস্তির দাবী জানায়। এছাড়া বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সাথে বহিরাগতদের সাথে তর্কাতর্কি শুরু হয়। এতে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। পরে খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করেন।

 

জানা গেছে, অর্জুনা মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম ওই বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষিকাকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানি ও কু-প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর শুরু আলোচনা-সমালোচনা। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা প্রধান শিক্ষকের অপসারন ও শাস্তির জন্য লিখিত অভিযোগ দেয়াসহ সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করে। অন্যদিকে ওই প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে দোষ স্বীকার পর বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেয়। বিদ্যালয়ে এমন পরিস্থিতিতে ক্লাশ কার্যক্রম ব্যাহত হয়। দীর্ঘদিন বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি থাকার পর সোমবার বহিরাগতদের দিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ চেষ্টা করে প্রধান শিক্ষক। এতে শুরু হয় গন্ডগোল। একপক্ষে শিক্ষক-শিক্ষার্থী অন্যপক্ষে প্রধান শিক্ষক ও বহিরাগতরা অবস্থান নেয়। পরে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় শিক্ষার্থীরা। এসময় চরিত্রহীন প্রধান শিক্ষককে অপসারণ ও শাস্তির দাবী জানানো হয়। পরে প্রশাসনের আশ^াসে ক্লাশে ফিরে যায় শিক্ষার্থীরা।

 

অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জানান, চরিত্রহীন প্রধান শিক্ষক বহিরাগতদের এনে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করে। একপর্যায়ে তালা ভাঙার চেষ্টা করলে প্রতিহত করা হয়। পরে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ থেকে বের হয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। পরিস্থিতি অস্বাভাবিক হওয়ার কারণে বিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পরে প্রশাসনের লোকজন আসার পর প্রধান শিক্ষকের রুম খুলে সেখানে মিটিং করা হয়।

 

অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী জহুরুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন অসুস্থ্য থাকার পর বিদ্যালয়ে গিয়েছি। লোকজনদের বুঝিয়ে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। পরে বিদ্যালয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও স্যার আসছিলেন। আমার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি করে দিয়ে গেছেন। তদন্ত কমিটির আইনগতভাবে ব্যবস্থা নিতে নিবেন। তবে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।

 

অজুর্না মহসীন উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি দিদারুল আলম খান মাহবুব জানান, প্রধান শিক্ষক লোকজন নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশের চেষ্টা করছে এমন খবর পেয়ে সেখানে গিয়েছিলাম। পরে শিক্ষা কর্মকর্তা ও ইউএনও বিদ্যালয়ে আসেন। আসার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এই ঘটনায় তিন সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করতে বলেছেন ইউএনও। তদন্ত শেষে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এসএম মনিরুজ্জামান বলেন, বিদ্যালয়ে পরিস্থিতির বিষয়টি জানার পর ইউএনও স্যারের সাথে সেখানে গিয়েছিলাম। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষকের বিষয়টি তদন্তের জন্য ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। ম্যানেজিং কমিটিই সিদ্ধান্ত নিবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়। পরে লোকজনদের বুঝিয়ে সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়। এরআগে শিক্ষিকাকে যৌন হয়রানি ও কু-প্রস্তাব দেয়ার বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনা তদন্ত এবং প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ম্যানেজিং কমিটিকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

ও‌জি/প্রটা