ভূঞাপুরে যমুনা রেল সেতু এলাকায় উত্তোলন হচ্ছে বালু!

নিজস্ব প্রতিবেদক : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনা নদী শুকিয়ে জেগে উঠেছে চর। জেগে উঠা নতুন চরে কৃষকরা বিভিন্ন ফসলের আবাদ শুরু করেছে। অপরদিকে চরাঞ্চলের এসব চর কেটে অবৈধভাবে বালু মহাল হিসেবে ইজারা নেয়ার পায়তারা করছে বালুখেকোরা। এতে ভুক্তভোগী কৃষকরা জেগে উঠা চর বালু মহাল হিসেবে প্রশাসন যাতে ইজারা না দেয় এজন্যে জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

এদিকে অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক থেকে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। ওই টিমের সদস্যরা সম্প্রতি যমুনার চরাঞ্চল পরিদর্শন করে গেছেন।

 

লিখিত অভিযোগে কৃষকরা জানায়, উপজেলার গাবসারা ইউনিয়নের গাবসারা, রেহাইচন্দুনী, সোহাগীপাড়া, রেহাইগাবসারা, কালীপুর, নিকলাপাড়াসহ বেশ কয়েকটি এলাকা নিয়ে অবৈধভাবে বালু মহালের নামে ইজারা আনার অপচেষ্টা করে আসছে কতিপয় কিছু অসাধু বালু ব্যবসায়ীরা। এসব এলাকা বালু মহাল ঘোষণা হলে বর্ষা মৌসুমে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন হওয়ার পাশাপাশি শুষ্ক মৌসুমে ধান, ভুট্টা, বাদাম সরিষা, পাট, কালাই, গমসহ বিভিন্ন শাক-সবজি চাষাবাদ বন্ধ হয়ে যাবে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যহত হবে। এছাড়া অনেক কৃষককে জীবিকা হারাতে হবে।

 

এদিকে সিরাজগঞ্জ পয়েন্ট থেকে বালু কিনে আনার দামে নবনির্মিত যমুনা রেল সেতুর কাছ থেকে নিয়মিত বালু উত্তোলণ করা হচ্ছে। সন্ধ্যা হতে শুরু নদীতে বালু উত্তোলনের কর্মযজ্ঞ শেষ হয় সকালে। এতে অনেক বাল্কহেড যমুনা রেলসেতুর নিচ দিয়ে আসার সময় সেতুর পিলারের সাথে সংঘর্ষ ঘটে। এরপাশে বঙ্গবন্ধু সেতুর পিলারেও বাল্কহেডের ধাক্কায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া ভূঞাপুর উপজেলার উত্তর দিকের অর্জুনা ইউনিয়নের কুঠিবয়ড়া হতে গোপালপুরের নলীন পর্যন্তও কয়েকটি ঘাট তৈরি করা হয়েছে। গুলিপেচা এলাকায় বালু বিক্রি করা হচ্ছে। সম্প্রতি অর্জুনাতে বালু উত্তোলণ ও বিক্রি বন্ধে এলাকাবাসী বিক্ষোভ ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করেছে।

 

গাবসারার কৃষক মিজানুর রহমান জানান, এলাকার ফসলি জমিগুলো অবৈধভাবে বালু মহালের নামে ইজারা নেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে। মহাল ঘোষণা হলে অনেক কৃষক বেকার হওয়ার পাশাপাশি আবাদ কমে যাবে ভূঞাপুরে। এছাড়া ভাঙনের মুখে পড়বে ফসলি জমি, বসত-ভিটা।

 

গাবসারা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহ আলম আকন্দ শাপলা জানান, বালু মহাল ইজারা বন্ধে কৃষকরা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। সপ্তাহ আগে জেলা প্রশাসন থেকে একটি টিম তদন্ত এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। মহাল করা হলে কৃষি আবাদ বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের কবলে পড়বে চরাঞ্চলের মানুষজন। তিনি আরো জানান, যে জমিতে বালু মহাল করার চিন্তা করা হচ্ছে সেগুলো জমি ব্যক্তি নামে রেকর্ডকৃত সম্পত্তি। ফলে তারাও ক্ষতিগ্রস্থ হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোছা. পপি খাতুন বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধে একটি লিখিত অভিয়োগ পেয়েছি। যমুনা চরের জমিগুলো ইজারা দেওয়া না হয় সে জন্য প্রয়োজীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

 

ওজি/প্রটা