বিশেষ প্রতিবেদক: বয়োবৃদ্ধ বাবা মকলেচুর রহমান এক সময় আওয়ামী লীগের সাথে যুক্ত থাকলেও বিগত ৪০ বছর ধরে রাজনীতি করেন না। ১০ বছর আগে শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহণ করেছেন। শিক্ষক মকলেচুর রহমানের ছেলে রমজান মিয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পুলিশে নিয়োগ পেয়ে ফরিদপুর জেলা হতে প্রশিক্ষণে এসেছিলেন টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে। ৬মাসের প্রশিক্ষণ শেষ হয়ে যখন তাকে কর্মস্থলে পাঠানো হবে সেই মুহুর্তে তিনি জানতে পারলেন তার পুলিশের চাকরি নেই। প্রশিক্ষণে থাকাবস্থায় তাকে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। এতে অব্যাহতির কাগজ নিয়ে সন্ধ্যার আগেই তাকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ছাড়তে হয়। শুধু রমজানই নয় তারমত আরো ১৩জনকে একই অভিযোগে প্রশিক্ষণরত অবস্থায় অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।
আরো পড়ুন- টাঙ্গাইলে প্রশিক্ষণরত ১৪ কনস্টেবলকে অব্যাহতি
বৃস্পতিবার (২ জানুয়ারি) টাঙ্গাইলে পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মাহফুজুর রহমানের স্বাক্ষরিত আদেশে ১৪জন কনস্টেবলকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়। আদেশে বলা হয়েছে, ‘শৃংখলা ভঙ্গজনিত কারণে অদ্য ২ জানুয়ারি অপরাহ্ন হতে প্রশিক্ষণ থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।” অব্যাহতি পাওয়া প্রশিক্ষণরত কনস্টেবলরা রাতের মধ্যেই মহেড়া ট্রেনিং সেন্টার ত্যাগ করে যার যার বাড়িতে চলে গেছে।
অব্যাহতি পাওয়া শাহিদুল ইসলামের বাড়ি নোয়াখালিতে। তার বাবা পেশায় একজন স্কুল শিক্ষক। শাহিদুল সাধারন কোটায় পুলিশের ভর্তি হয়েছিল। তাদের পরিবারে কেউ আওয়ামী লীগের পদধারী নেতা নেই বলে জানায় সে।
শাহিদুল ইসলাম বলেন, আমার সিসিতে কোন কারণ উল্লেখ করা হয়নি। কি শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলাম সেটাও বলা হয়নি। আওয়ামী লীগের সময় যোগদান করেছি সেটাও যদি অব্যাহতিপত্রে উল্লেখ থাকতো তাহলে হয়ত মনটাকে শান্তনা দিতে পারতাম। ৬মাসের বেশি প্রশিক্ষণ করেছি। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে বলা হয়েছে, উপর মহল থেকে তোমাদের বাদ দেয়া হয়েছে।
শেখ নাঈম রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় আমাদের পুলিশে চাকরি হওয়ায় কাল হয়েছে। এলাকা থেকে গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে হয়ত আওয়ামী লীগের লোক বানিয়েছে। ৩১ তারিখেই আমরা জানতে পারি আমাদের বাদ দেয়া হচ্ছে। সেন্টারের কর্মকর্তারাও অপারগতা প্রকাশ করে বলেছিলেন, ভাইরে আমাদের কিছু করার নেই উপরের নির্দেশ।
নিহাদ হাসান বলেন, অপরাধ হল আমি সেভ (দাড়ি) করেনি কেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গের কোন অভিযোগ নেই আমার বিরুদ্ধে। তারপরও চাকরি থেকে বাদ দেয়া হল প্রশিক্ষণ থাকাকালীন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার আগেই কেন্দ্র থেকে চলে আসছি।
চাকরি হারানো রমজান মিয়া বলেন, বাবার বয়স পচাত্তুরের কাছাকাছি। এক সময় আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতো এটা ঠিক। কিন্তু বিগত ৪০ বছর ধরে তিনি কোন রাজনীতির সাথে যুক্ত নয়। তিনি শিক্ষকতা করতেন। পরিবারের কেউ আওয়ামীলীগের পদধারী নেই। তারপরও আমাকে বাদ দেয়া হল। প্রশিক্ষণের স্যারও অবাক হয়েছে আমাদের বাতিলের বিষয়ে। আমরা ক্লাশে সব চেয়ে ভাল করেছি। স্যাররাও আমাদের উপর খুব খুশি ছিল। জানামতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ হবে এমন কোন কাজ করেনি।
উল্লেখ্য, মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টার সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ জুন থেকে ৫৪তম ব্যাচের টাঙ্গাইলের মহেড়া পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারে ৭৯৩জনের ৬মাস মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। এদের মধ্যে ৬জন অসুস্থ্য হওয়ায় তাদের বাদ দেয়া হয়। পরবর্তিতে ৭৮৭জন কনস্টেবল প্রশিক্ষণ নিচ্ছেলেন। ১৯ ডিসেম্বর প্রশিক্ষণরত ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলের (টিআরসি) সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও সেটির তারিখ বাতিল করে ১২ জানুয়ারি করা হয়।
ওজি/প্রটা

