নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের সখীপু‌রে মে‌য়ে সাবরিনা সা‌থে এসএস‌সির নবম শ্রেণীর ভো‌কেশনাল পরীক্ষা দি‌চ্ছেন মা শেফালী আক্তার (৩৫)।

 

মঙ্গলবার (৭ ন‌ভেম্বর) কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন এসএসসি (ভোকেশনাল) নবম শ্রেণির বোর্ড ফাইনাল গ‌ণি‌ত পরীক্ষায় অংশ নিয়েছি‌লেন।

 

তি‌নি টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার ভুয়াইদ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট অ্যান্ড বিএম কলেজের ছাত্রী। তার মে‌য়েও একই ক‌লে‌জের শিক্ষার্থী। মা ও মে‌য়ে সখীপুরের সূর্য তরুণ শিক্ষাঙ্গন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন।

 

  • শেফালী আক্তার উপজেলার বড়চওনা বিন্নাখাইরা গ্রামের মৃত আব্দুস সবুর মিয়ার স্ত্রী। শেফালীর ছোট ছেলে সামিউল ইসলাম তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ে।

 

জানা গে‌ছে, অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হয়ে যায় শেফালী আক্তা‌রের। । কিন্তু লেখাপড়ার প্রতি প্রবল আগ্রহ থেকেই যায় তার। এরপর কেটে যায় ২২টি বছর। এদি‌কে ২০২১ সালের ২১ ডিসেম্বর সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায় তার স্বামী। বড় মেয়ে সাবরিনা তখন অষ্টম শ্রেণিতে উঠার জন্য বার্ষিক পরীক্ষা দিয়েছে। স্বামীর মৃত্যুর পর মেয়ের পড়াশোনার দায়িত্ব তার ঘাড়ে চাপে। মেয়েকে বিদ্যালয়ে ও শিক্ষকের কাছে প্রাইভেট পড়াতেও তাকেও সঙ্গে যেতে হয়। তিনি ভাবলেন, মেয়ের সঙ্গে যেহেতু যেতেই হয় এ কারণে তিনিও ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মেয়ের সঙ্গে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হন।

 

এদি‌কে বিরোধীদলের অবরোধ কর্মসূচির কারণে ১ নভেম্বর সারা দেশে পরীক্ষা শুরু হয়‌নি। মঙ্গলবার গণিত পরীক্ষা অনু‌ষ্ঠিত হয়। ১ নভেম্বরের বাংলা পরীক্ষা অনু‌ষ্ঠিত হব আগামী শনিবার।

 

শেফালী আক্তার বলেন, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকলেও অষ্টম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয়ে যায়। সড়ক দুর্ঘটনায় স্বামী মারা যাওয়ার পর মেয়েকে বিদ্যালয়ে ও প্রাইভেট পড়াতে আমাকেই সঙ্গে যেতে হয়। পরে চিন্তা করি মেয়ের সঙ্গে আমিও পড়াশোনা করব। পরে নবম শ্রেণিতে মেয়ের সঙ্গে আমিও ভর্তি হই। ওই প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান আমাকে পড়ার জন্য উৎসাহ দেয়। একই কেন্দ্রে ও একই কক্ষে মেয়ের পেছনের বেঞ্চে বসে পরীক্ষা দিচ্ছি। মেয়ের চেয়েও আমার পরীক্ষা ভালো হয়েছে।লআমি বাল্যবিবাহের শিকার হয়ে সময়মতো পড়তে পারেনি। আমার মেয়েকে মাস্টারস ডিগ্রি পাস করিয়ে বিয়ে দেব।

 

  • মেয়ে সাবরিনা আক্তার বলেন, ভাবতেই খুব ভালো লাগছে, আমরা মা-মেয়ে একই সঙ্গে এসএসসি ভোকেশনাল নবম শ্রেণি ফাইনাল পরীক্ষা দিচ্ছি। এমন সুযোগ আর কয়জনের ভাগ্যে আসে। মা শুধু আমার মা-ই নন, তিনি ভালো একজন বান্ধবী।

 

উপজেলার ভুয়াইদ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট অ্যান্ড বিএম কলেজের অধ্যক্ষ মেহেদী হাসান বলেন, ইচ্ছাশক্তি থাকলে লেখাপড়ায় বয়স কোনো বাধা নয়। শেফালী আক্তারের এমন উদ্যোগ অনেককে অনুপ্রাণিত করবে। দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে সমাজে।

 

ওজি