মুশফিকুর মিল্টন: টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেলেন কালিহাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোজহারুল ইসলাম তালুকদার।
রোববার ( ২৬ নভেম্বর) বঙ্গবন্ধু এভিনিউস্থ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রিয় কার্যালয়ে দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের চুড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
মোজহারুল ইসলাম তালুকদারের নাম ঘোষণা হওয়ার সাথে সাথেই নেতাকর্মীরা আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠেন। কালিহাতী ও এলেঙ্গা পৌরসভাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে হয়েছে আনন্দ মিছিল।
মিছিলে অংশগ্রহণ করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মোল্লা, কালিহাতী পৌরসভার মেয়র নুরুন্নবী সরকার, এলেঙ্গা পৌরসভার মেয়র নূর এ আলম সিদ্দিকী৷ উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ-আলম মোল্লা, স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক আব্দুল লতিফমোল্লাসহ কয়েক শতাধিক নেতাকর্মী।
মোজহারুল ইসলাম তালুকদার পা থেকে মাথা পর্যন্ত আগাগোড়া একজন পূর্ণাঙ্গ আওয়ামী লীগার। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘প্রিয় ঠান্ডু ভাই’ হিসেবে সুপরিচিত। রাজনীতি তার ধ্যান-জ্ঞান আর আওয়ামী লীগ তার রসদ। আজীবন সংগ্রামী মোজহারুল ইসলাম তালুকদার কালিহাতী উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রাণপুরুষ। তার সুদক্ষ নেতৃত্বেই অত্যন্ত সুসংগঠিত কালিহাতীর আওয়ামীলীগ।
এমপি পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেতে তিনি মাঠ-ঘাট চষে বেড়িয়েছেন। কালিহাতী উপজেলার পূর্বাঞ্চল মরিচা থেকে পশ্চিমাঞ্চল আফজালপুর এবং দক্ষিণে সুরাবাড়ী থেকে উত্তরে বেতডোবা পর্যন্ত দিনরাত সভা-সেমিনার, উঠান বৈঠকের মাধ্যমে গণসংযোগ করছেন। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হওয়ায় উপজেলার প্রতিটি গ্রাম-মহল্লা এবং দলের অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর ওয়ার্ড-ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা সরাসরি তার দীর্ঘদিনের সঙ্গী হওয়ায় গণসংযোগে পাচ্ছেন বাড়তি সুবিধা।
মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ১৯৫০ সালে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের কুরুয়া গ্রামের ঐতিহ্যবাহী চৌধুরী বাড়ি মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পৈত্রিক নিবাস নারান্দিয়া ইউনিয়নের নগরবাড়ি গ্রামের সম্ভ্রান্ত তালুকদার বাড়ি। ১৯৬৭ সালে সিংগুরিয়া স্যার আব্দুল হালিম গজনবী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পাস করেন। ১৯৬৯ সালে সরকারি এমএম আলী কলেজ থেকে এইচএসসি এবং ১৯৭২ সালে ওই কলেজ থেকেই বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন। সরকারি এমএম কলেজে পড়াশোনা অবস্থায় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব, টাঙ্গাইল মহকুমা ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক এবং পরে সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্বপালন করেন। ১৯৯২-৯৮ সালে প্রথম এবং ২০০৩-১১ সাল পর্যন্ত দ্বিতীয় বার নারান্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করেন। ১৯৭৪-৭৭ সাল পর্যন্ত কালিহাতী থানা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক, ১৯৭৭-৮৪ সাল পর্যন্ত কালিহাতী থানা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ১৯৮৪-৯০ সাল পর্যন্ত দুইবার কালিহাতী থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, ১৯৯০-৯১ সাল পর্যন্ত কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক, ১৯৯১ সালের পর থেকে পঞ্চম মেয়াদে বর্তমান সময় পর্যন্ত তিনি দক্ষতার সাথে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি ১৯৯৭ সালে টাঙ্গাইল জেলার শ্রেষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে স্বর্ণপদক লাভ করেন। ২০১৪ সালের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ২৬ হাজার ভোট বেশি পেয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়ে সফলতার সাথে কাজ করেছেন।
১৯৭১ সালে মুজিব বাহিনীর হয়ে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান খান ফারুকের নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পূর্বে এবং পরবর্তী সময়ে উপজেলা-জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। আন্দোলন-সংগ্রাম করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে কারাবরণ করেছেন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার পর দুই বার গ্রেপ্তার হন এবং দুইবারই সামরিক জান্তার নির্মম অত্যাচার-নির্যাতন সহ্য করেন। পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন আন্দোলন- সংগ্রামের মধ্য দিয়ে কালিহাতী উপজেলা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করেছেন। তিনি কালিহাতীর বিভিন্ন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠন প্রতিষ্ঠায় তার রয়েছে অপরিসীম অবদান।
জানা যায়, দীর্ঘকাল থেকে মোজহারুল ইসলাম তালুকদার কালিহাতী উপজেলার সাধারণ মানুষের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করেছেন। তিনি একজন ন্যায়পরায়ন রাজনীতিক। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের আদর্শ প্রচার ও দলকে সুসংগঠিত করতে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন। জেলা, উপজেলা, বিভাগ ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তার ব্যাপক গ্রহণ যোগ্যতা রয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে অমায়িক ও স্পষ্টবাদী ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় আসায় এলাকার উন্নয়ন কর্মকান্ডে নিজেকে সম্পৃক্ত করেছেন।
মোজহারুল ইসলাম তালুকদার সম্পর্কে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতারা বলেন, কালিহাতীর আওয়ামীলীগ ও মোজহারুল ইসলাম তালুকদার দুইটি সমার্থক শব্দ। তিনি তিলতিল করে কালিহাতীতে আওয়ামী লীগের সুদৃঢ় ভীত গড়ে তুলছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াতের মূর্তিমান আতংক। উপজেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত আওয়ামীলীগকে দীর্ঘদিন যাবৎ সুসংগঠিত করে রেখেছেন। তার নিরলস পরিশ্রমের ফল আমরা সবাই ভোগ করি এবং করছি।
এমপি পদে দলীয় মনোনয়ন পেয়ে মোজহারুল ইসলাম তালুকদার বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ বুকে ধারণ করে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনীতি করি মানুষের সেবা করার জন্য। তৃণমূল আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, কৃষকলীগ ও যুবলীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে জননেত্রীকে শেখহাসিনাকে এআসনটি উপহার দিব ইনশাআল্লাহ।
এ আসনে মোজহারুল ইসলাম তালুকদার ছাড়াও মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন বর্তমান সাংসদ ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী, জেলা আওয়ামী লীগের কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক আবু নাসের এবং কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর ছোটভাই সাবেক ছাত্রনেতা মুরাদ সিদ্দিকী।
ওজি
