ঘাটাইল সংবাদদাতা: ডা. কামরুল হাসান নিজের সর্বস্ব দিয়ে গরীব অসহায় রোগীদের পাশে দাড়িয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে তিনি এবার তার এলাকার মানুষের ভাগ্যে উন্নয়নে কাজ করার জন্য নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। ইতোমধ্যে ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছেন তিনি। ভোটাররা খুশি এমন ক্লিন ইমেজের প্রার্থী পেয়ে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আস্থাভাজন ডা. কামরুল ইসলাম প্রতিনিয়ত ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন এবং ভোট প্রার্থণা করছেন। এছাড়া এলাকার উন্নয়নে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। সকল স্তরের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার জন্য মানুষের দ্বারে দ্বারে ভোট চাইছেন। শুধু তাই নয় সম্প্রতি অভিনেতারাও দলবেধে ঘাটাইল এসে নৌকা প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। এছাড়া ডা. কামরুল হাসানের বড় ভাই চিত্রনাট্যকার ও অভিনেতা মামুনুর রশীদ এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ঘাটাইলের প্রত্যন্ত এলাকায় গিয়ে গিয়ে সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে আবারও নৌকায় ভোট চাইছেন কামরুল হাসান ও নাট্যকার মামুনুর রশীদ।

 

জানা গেছে, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. কামরুল হাসান খান ৯৮২ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। এরপরে তিনি ১৯৮৪ সালে মেডিকেল অফিসার হিসাবে সরকারী চাকরিতে যোগদান করেন। পরে তিনি ১৯৯১ সালে বিএসএমএমইউতে যোগ দিয়েছিলেন। উপাচার্য হওয়ার আগে তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যাথলজি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। কামরুল হাসান খান ১৯৫৫ সালের ১২ মার্চ টাঙ্গাইল জেলার ঘাটাইল উপজেলার ভাবনদত্ত গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্ত্রী মাসুদা বেগম বিএসএমএমইউর হেমাটোলজি বিভাগে কর্মরত। তার বড় ভাই মামুনুর রশিদ একজন বিখ্যাত নাট্যকার ও নাট্যকর্মী। কামরুল ১৯৯৯ সাল থেকে ২০১৫ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সমিতির সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। Effects Of Topical Application of Ethylene Glycol on Rats শিরোনামে একটি গবেষণা করেছন। তিনি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) দুবার নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক, বিসিএস কেন্দ্রীয় সমন্বয় পরিষদের (২৬ ক্যাডার) সাবেক যুগ্ম মহাসচিব, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) ও প্রকৌশলী, কৃষিবিদ ও চিকিৎসকদের সংগঠন প্রকৃচির কার্যকরী পরিষদের সদস্য, কেন্দ্রীয় ইন-সার্ভিস ট্রেনি চিকিৎসক পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ও সন্ধানীর আজীবন উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। চিকিৎসা শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খানের ৪০টিরও বেশি স্বাস্থ্য, রাজনীতি ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক বিভিন্ন প্রবন্ধ, নিবন্ধ দেশী-বিদেশী জার্নাল ও স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ‘বাঙ্গালির মুক্তির ইতিহাস; বঙ্গবন্ধু থেকে বঙ্গবন্ধুকন্যা’, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধ, এবং ভ্যাকসিন’ এবং ‘৯০ এর গণ-অভ্যুথানে শহীদ ডা. মিলন’ নামে তার তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে।

 

ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করছেন ডা. কামরুল হাসান

 

ভোটারা জানান, কামরুল হাসান শুধু ডাক্তারই নন। তিনি একজন সমাজসেবক ও জনদরদী চিকিৎসক। কাজের প্রয়োজনে বাইরে থাকলেও সব সময়ই এলাকার মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। এমন প্রার্থীই ঘাটাইলবাসীর প্রয়োজন।

 

আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা জানান, ডা. কামরুল হাসান একজন কর্মী বান্ধব এবং যোগ্য লোক। সবাই তার হয়ে মাঠে কাজ করছে। ভোটারও তাকে ভোট দিতে উৎসুক হয়ে আছে। ভোটারদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছি।

 

নৌকা প্রার্থী ডা. কামরুল হাসান খান জানান, আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়েছি। নির্বাচিত হতে পারলে এলাকায় অসমাপ্ত উন্নয়ন কাজগুলো সম্পন্ন করবো। আগে থেকেই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত রেখেছি। ঘাটাইল উপজেলাকে সুন্দর নগরী হিসেবে গড়ে তুলবো। জনসাধারণের প্রাণের দাবি ঘাটাইলে একটি আইটি পার্ক স্থাপন করা হবে। নির্বাচিত হয়ে প্রথমেই উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের অভ্যন্তরীণ দূরত্বের নিরসন করবো। সবাই আমরা এক হয়ে কাজ করবো শেখ হাসিনার হয়ে। এলাকার সাধারণ জনগণের শ্রেণি অনুযায়ী মূল্যায়ন করবো। মাদকমুক্ত নগরী গড়ে তুলবো। এছাড়া দরিদ্রদের বিনামূল্যে উন্নতমানের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

 

এ আসনে ডা. কামরুল হাসান ছাড়াও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র (ঈগল) প্রতীকের প্রার্থী আমানুর রহমান খান রানা, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দলের সাখাওয়াত খান সৈকত, হাসান আল মামুন (এনপিপি), আব্দুল আজিজ খান (জাকের পার্টি) ও আবদুল হালিম (জাতীয় পার্টি) এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম-নোঙর) প্রতীকের প্রার্থী ক্যাপ্টেন (অবঃ) জাকির হোসেন।

 

১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত ঘাটাইল-৩ আসন। এ আসনটিতে মোট ভোটার ৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৭৩। এতে পুরুষ ভোটার রয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৯০ এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৭৮ হাজার ৮৮১। এছাড়া এই আসনে হিজড়া ভোটার রয়েছেন দুইজন।

 

ওজি