টোলবুথে দাায়িত্বরতদের সাথে কথা বলছেন জেলা প্রশাসক

বিশেষ প্রতিবেদক: গেল বছরের ঈদ-উল-ফিতরের চেয়ে এবছর ঈদ যাত্রায় বঙ্গবন্ধু সেতুতে বেশি পরিমাণ যানবাহন পারাপার হয়েছে। সেই সাথে বেড়েছে সেতুতে টোল আদায়ের হার। দেশের অন্যতম বৃহৎ এই বঙ্গবন্ধু সেতু দিয়ে উত্তরবঙ্গের ২৩টি জেলার মানুষজন যাতায়াত করে। একই সেতুতে রেললাইনের ট্রেনগুলোতে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ ঈদে বাড়ি ফিরেছে।

 

শনিবার (৬ এপ্রিল) রাত ১২ হতে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত ১২ পর্যন্ত পাঁচদিনে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল, মাইক্রোবাস, বাস ট্রাক মিলিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার ৩১৯ টি পরিবহন সেতু পারাপার হয়েছে। পারাপার হওয়া এসব পরিবহন থেকে সেতুতে টোল আদায় ১২ কোটি ৩৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৫০ টাকা।

 

এরআগের বছর ২০২৩ সালে ঈদ-উল-ফিতরে বঙ্গবন্ধু সেতুতে সোমবার (১৭ এপ্রিল-২০২৩ ইং) রাত ১২টা হতে বৃহস্পতিবার (২০ এপ্রিল-২০২৩ইং) রাত ১২টা পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুতে বাস, ট্রাক, পিকআপ, লড়ি, মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও মাইক্রোবাসসহ ১ লাখ ৩১ হাজার ১৭০টি পরিবহন পারাপার হয়েছিল। এসব পরিবহন থেকে সেতুতে টোল আদায় হয়েছিল ১০ কোটি ১৪ লাখ ৪৪ হাজার ১০০ টাকা।

 

এদিকে মহাসড়কে এবছর ঈদযাত্রায় তেমন ভোগান্তি ছিল না যাত্রী ও চালকদের। তবে ঈদের দুইদিন আগে অর্থ্যাৎ মঙ্গলবার রাত হতে দুপুর পর্যন্ত মহাসড়কে ব্যাপক ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছিল। ভোগান্তিতে যোগ হয়েছিল তীব্র তাপদাহ ও ধুলাবালি। পরে মহাসড়কে ভোগান্তি লাঘবে বঙ্গবন্ধু সেতু একমুখী করণ ও সেতুর পশ্চিমপাড়ে ঢাকামুখী পরিবহন থেকে টোল আদায় বন্ধ রাখায় ভোগান্তি কমেছে উত্তর পথের ঈদযাত্রায়।

 

জানা গেছে, শনিবার (৬ এপ্রিল) রাত ১২টার পর হতে রবিবার (৭ এপ্রিল) রাত ১২ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধু সেতুতে ২৫ হাজার ৮৪টি পরিবহন পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ২ কোটি ১৭ লাখ ৮৬ হাজার ৮৫০টি।

 

রবিবার (৭এপ্রিল) রাত ১২টার পর থেকে সোমবার (৮এপ্রিল) রাত ১২টা পর্যন্ত সেতু পার হয়েছে ২৯ হাজার ৭৮০টি। এতে টোল আদায় হয়েছে। ২ কোটি ৫০ লাখ ৮৯ হাজার ২০০ টাকা।

 

সোমবার (৮এপ্রিল) রাত ১২টার পর হতে মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাত ১২টা পর্যন্ত সেতু পার হয়েছে ৪৩ হাজার ৪২৭টি পরিবহন। এতে টোল আদায় হয়েছে ৩ কোটি ৩ লাখ ৬৬ হাজার ৮৫০ টাকা।

 

মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) রাত ১২ টার পর হতে বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত ১২ পর্যন্ত ৪৭ হাজার ৭৫৫টি পরিবহন সেতু পারাপার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে। ৩ কোটি ৩০ লাখ ৯৯ হাজার ৪০০ টাকা।

 

সর্বশেষ বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত ১২ টার পর হতে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১২টা পর্যন্ত ১৯ হাজার ২৭৩টি পরিবহনের বিপরীতে ১ কোটি ৩৫ লাখ ৫০ হাজার ৬৫০ টাকা টোল আদায় হয়েছিল।

 

মহাসড়কে যানজট নিরসনে জেলা প্রশাসন, জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করেছিল। এরপরও ঈদের আগের মঙ্গলবার ঈদে বাড়ি ফেরা মানুষের ঢল নামায় মহাসড়কে পরিবহনের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় যানজটের কবলে পড়েছিল। এছাড়া ঈদকে কেন্দ্র করে ফিটনেসবিহীন পরিবহন সড়কে নামানো, বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর দূর্ঘটনায় সেতু টোল আদায় বন্ধ থাকার কারণে উত্তরবঙ্গের মানুষের ভোগান্তি হয়েছিল। একদিনের ভোগান্তি থাকলেও বাকি ঈদ যাত্রার দিনগুলোতে মানুষজন স্বস্তিতেই বাড়ি যেতে পেরেছে।

 

এদিকে মহাসড়কে যানজট লাঘবে বড় ভূমিকা ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু-ভূঞাপুর-এলেঙ্গা ২৯ কিলোমিটারের আঞ্চলিক সড়ক। প্রতিবছর ঈদে এই সড়কটি ব্যবহার করা হয় ঢাকাগামী পরিবহন চলাচলের জন্য। তবে এই সড়কের ভোগান্তি ছিল এবার ঈদ যাত্রায়। সড়কটির বিভিন্ন পয়েন্টে তৈরি হয়েছিল যানজট।

 

বঙ্গবন্ধু সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আহসানুল কবীর পাভেল জানান, মহাসড়কে যানজট বা টোল আদায়ে যাতে কোন সমস্যার সৃষ্টি না হয় সেই ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট সজাগ ছিল। এবার ঈদে বেশি সংখ্যাক গাড়ি সেতু পারাপার হয়েছে।

 

ওজি/অভি