উপজেলা পরিষদ নির্বাচন

 

ভূঞাপুর প্রতিনিধি: উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পরই গণসংযোগসহ প্রচার প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পাড়ছেন টাঙ্গাইলে ভূঞাপুরের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা। চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের ৫জন ও বিএনপির একজনসহ ৬জন প্রার্থী মনোননয়পত্র জমা দিয়েছেন।

 

নির্বাচনে তফসিল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই সরগরম হয়ে উঠেছে উপজেলাজুড়ে। পোষ্টার, ফেস্টুন, ব্যানার সাটিয়েছেন প্রার্থীরা। অংশ নিচ্ছেন বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠানসহ সভা-সমাবেশে। দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতিও। হাট-বাজারসহ গ্রামে গ্রামে পথসভা ও ভোট প্রার্থণা করছেন। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী থাকলেও বিএনপিতে একক প্রার্থী হওয়ায় সুযোগ কাজে লাগাতে ব্যস্ত তিনিও।

 

চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য আমিরুল ইসলাম তালুকদার বিদ্যুৎ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক তাহেরুল ইসলাম তোতা, আওয়ামী লীগ নেতা ফিরোজ চৌধুরী ও জাতীয় শ্রমিকলীগের জেলা শাখার সম্পাদক মো. আব্দুল লতিফ। এছাড়া উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

 

এছাড়া উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদেও (পুরুষ-মহিলা) আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। এরা হলেন, বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মনিরুল ইসলাম বাবু, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফুল হক এবং ফলদা ইউনিয়নের খোরশেদ আলম। এছাড়া বীরমুক্তিযোদ্ধা ওয়াজেদ আলী খান মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীরা হলেন, উপজেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বর্তমান ভাইস চেয়ারম্যান আলিফনুর মিনি, সাধারন সম্পাদক মোছা. সাদিয়া আফরিন খানম লোপা, জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সদস্য মোছা. হোসনে আরা বেবী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান (পুরুষ-মহিলা) পদে ১৪জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুসারী চেয়ারম্যান প্রার্থীদের বাইরে উপজেলা আওয়ামী লীগের একাংশের প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা ও ব্যবসায়ী ফিরোজ চৌধুরী। তার সাথে দলীয় নেতাকর্মীরা নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা করছেন। তিনিও মাঠ-ঘাট চুষে বেড়াচ্ছেন এবং ভোটারদের কাছে ভোট প্রার্থণা করছেন। ভোটারদের দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি।

 

জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ জানান, জনগণের পাশে থেকে তাদের সমস্যা নিরসনে কাজ করবো। ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছি। পৌরসভায় চেয়ারম্যান থাকাকালীন সময়ে ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলাম। প্রতিনিয়তই জনগণের সেবায় নিয়োজিত রয়েছি।

 

উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ চৌধুরী জানান, মানুষের পাশে থেকে তাদের জন্য কাজ করতে চাই। নির্বাচনে ভোটারদের সাড়া পাচ্ছি ব্যাপক। উপজেলায় অনেক কাজ বাকি রয়েছে। মডেল উপজেলা গড়ে তোলাই হবে। ভোটাররা ভোট দেয়ার পরিবেশ থাকলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো।

 

উপজেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ৬ষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জমা দেয়ার শেষ দিন ছিল ২১ এপ্রিল, বাছাইয়ের তারিখ ২৩ এপ্রিল, আপিল দায়ের ২৪-২৬ এপ্রিল, আপিল নিষ্পত্তি ২৭-২৯ এপ্রিল, প্রার্থীতা প্রত্যাহার ৩০ এপ্রিল এবং প্রতীক বরাদ্দ ২ মে। উপজেলায় আগামী ২১ মে ভোটগ্রহণ হবে।

 

ওজি/প্রটা