নাগরপুর সংবাদদাতা: আলোচিত ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত শিলাস্তি রহমান ছোটবেলা থেকেই উচ্ছৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করতেন। উচ্ছৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করার কারণে পরিবারের সদস্যদের সাথে ইতোমধ্যেই তার সম্পর্কও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। তার জন্ম টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় হলেও তিনি বড় হয়েছেন ঢাকায়। শিলাস্তি রহমান নাগরপুর সদর ইউনিয়নের পাইশানা গ্রামের আরিফুর রহমানের মেয়ে। তিনি দুই বোনের মধ্যে বড়। আনারকে হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত শিলাস্তি রহমান জড়িত থাকার বিষয়টি প্রমাণিত হলে নিজ গ্রামের লোকজনও তার শাস্তি দাবি করেন।
শনিবার (২৫ মে) দুপুরে শিলাস্তি রহমানের দাদা ঠান্ডু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা গেছে- দোতলা ভবন বিশিষ্ট বাড়ির পুরোটাই ফাঁকা পড়ে রয়েছে। পাশের টিনের ঘরে তালা ঝুলছে। কক্ষগুলোর ভেতরে নেই কোনো আসবাবপত্র। আর্বজনা পড়ে রয়েছে ঘরে ও বাইরে। ছোটবেলা থেকে ঢাকায় থাকার কারণে এলাকার অধিকাংশ মানুষের কাছে শিলাস্তি রহমান অপরিচিত। বাড়িতে সাংবাদিক আসার খবর পেয়ে স্থানীয় অনেকেই সেখানে উপস্থিত হন।
স্থানীয়রা জানান, স্বাধীনতার পরপরই শিলাস্তির বাবা আরিফুর রহমান ও দাদা ঠান্ডু মিয়াসহ পরিবারের সবাই ঢাকায় চলে যান। শিলাস্তির বাবা আরিফুর রহমান দ্বিতীয় বিয়ে করেন। শিলাস্তির মায়ের মৃত্যুর পর তার সৎমায়ের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে উঠেনি। কয়েক বছর পরপর তারা গ্রামের বাড়িতে আসেন। শিলাস্তি উচ্ছৃঙ্খল থাকায় পরিবারের অনেকের সাথেই তার সম্পর্ক খারাপ হয়েছে। শিলাস্তি বড় হওয়ার পর গ্রামে তেমন না আসায় প্রতিবেশিদের কাছে তিনি অপরিচিত।
শিলাস্তির চাচাতো দাদা সেলিম মিয়া বলেন, ‘শিলাস্তি তার বাবার প্রথম ঘরের সন্তান। দুই বোনের মধ্যে শিলাস্তি বড়। তার বাবা ঢাকায় জুট ব্যবসা করে। ছোট বেলা থেকেই তারা ঢাকার উত্তরায় বসবাস করছেন। কয়েক বছর পরপর আরিফুর রহমান গ্রামের বাড়িতে আসলেও দুই একদিন পর আবার চলে যেত। ছোটবেলা থেকেই শিলাস্তির চলাফেরা উচ্ছৃঙ্খল ছিল। শিলাস্তি বাড়ির বাইরে দিনের পর দিন সময় কাটানোর কারণে তাদের সাথে আমরা কথা বলা বাদ দিয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনাটি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর জানতে পারি শিলাস্তি এমপি হত্যার ঘটনায় জড়িত। এতে আমরাও বিব্রত অবস্থায় আছি। দোষী প্রমাণ হলে আমিও তার বিচার দাবি করি।’
স্থানীয় ইউপি সদস্য আতিকুর রহমান উজ্জল বলেন, ‘শিলাস্তির সম্পর্কে আমার তেমনটা জানা নেই। শুনেছি একজন সংসদ সদস্য হত্যার ঘটনায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি অপরাধী প্রমাণ হলে আইনানুযায়ী তার শাস্তি হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজা মো. গোলাম মাসুম প্রধান বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকেই শিলাস্তির পরিবার ঢাকায় বসবাস করেন। গ্রামের বাড়িতে তার কেউ থাকে না। তার বিষয়ে আমাকে কেউ তথ্য দিতে পারেনি।’
ওজি/প্রটা
