নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে। নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি পানিবন্দি হচ্ছে হাজার হাজার পরিবার। গরু-ছাগল, হাঁস-মুরগি নিয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে বর্ন্যাতরা। দেখা দিচ্ছে সুপিয় পানির অভাব। অন্যদিকে ভূঞাপুরে যমুনা নদীর পানি গ্রামে প্রবেশ করায় একটি পাকা সড়ক ভেঙে গেছে । এছাড়া পানিবন্দি হয়ে পড়েছে শতশত পরিবার। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছে নিম্নাঞ্চলের মানুষজন।
সরেজমিনে উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কষ্টাপাড়া ঘোষপাড়া, খানুরবাড়ী, ভালকুটিয়া এলাকায় দেখা গেছে, যমুনা নদীর পানি পাড় উপচিয়ে এইসব এলাকায় প্লাবিত হয়ে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে মানুষজন। রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন এসব পানিবন্দি মানুষজন। গত দুইদিন ধরে তারা পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। যমুনা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করায় গোবিন্দাসী-কষ্টাপাড়া-ভালকুটিয়া রাস্তাটি ভেঙে গেছে। এতে ওই রাস্তায় চলাচল বন্ধ হয়ে দূর্ভোগে পড়েছে স্থানীয়রা। গোবিন্দাসী বাজারের কিছু অংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছে উপজেলার গাবসারা, নিকরাইল, অর্জূনা ইউনিয়নের বেশ কয়েকটি গ্রামের মানুষজন।
শনিবার (৬ জুলাই) দুপুর ১২টা পর্যন্ত যমুনা নদীর ভূঞাপুর অংশে বিপদসীমার ৫৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পানি। আর বঙ্গবন্ধু সেতু কর্তৃপক্ষের হিসেব অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু সেতু এলাকায় যমুনা নদীতে দুপুর ১২ টা পর্যন্ত বিপদসীমারা ৮ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে।
জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া সকাল নয়টার তথ্যে জানা গেছে, গত ২৪ ঘন্টায় ঝিনাই নদীর পানি জোকারচর পয়েন্টে ১৪ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি পোড়াবাড়ি পয়েন্টে ৮ সেন্টিমিটার, ধলেশ্বরী নদীর পানি এলাসিন পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, ফটিকজানি নদীর পানি নলচাপা ব্রীজ পয়েন্টে ১৮ সেন্টিমিটার, বংশাই নদীর পানি কাউলজানী পয়েন্টে ২৪ সেন্টিমিটার, মির্জাপুর পয়েন্টে ১২ সেন্টিমিটার, এবং মধুপুর পয়েন্টে ১৭ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। জেলার ভুঞাপুর, কালিহাতী, নাগরপুর, গোপাপলপুর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে নদীর পানি প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধির কারণে কয়েকটি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ভাঙ্গনও অব্যাহত রয়েছে।
ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের ভালকুটিয়ার ইউপি সদস্য আব্দুল কাদের জানান, পানির স্রোতের কারণে ভালকুটিয়া এলাকার পাকা রাস্তা ভেঙে গিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। প্রতিবছরই যমুনা নদীর পানি এলাকায় করায় ক্ষতিগ্রস্থ মানুষজন। নদীতে স্থানীয় একটি বাঁধ নির্মাণ করা হলে এলাকায় বন্যা হবে না।
উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দুলাল হোসেন চকদার বলেন, যমুনা পানি লোকালয়ে আসায় কষ্টাপাড়া, ভালকুটিয়া, খানুরবাড়ি, চিতুলিয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের মানুষজন পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। ভালকুটিয়ার রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় আরো বেশি দুর্ভোগে পড়েছে তারা। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও বন্যার্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মামুনুর রশীদ জানান, সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হচ্ছে। এছাড়া ভাঙন এলাকা ও বন্যা কবলিতদের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। প্রশাসনের সকল প্রস্তুতি রয়েছে।
ওজি/প্রটা
