নৃত্য পরিবেশ করছেন আদিবাসীরা

মধুপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি জনপদে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি সম্প্রদায়ের আ’বিমা ফেস্টিভ্যাল উদযাপন করেছে। শুক্রবার (১৩ অক্টোবর) দিনব্যাপী ‘শেকড়ের টানে প্রজন্মের মেলবন্ধন’ এ স্লোগানে মুখরিত হয়ে নাচ গান ও মহামিলনের মধ্য দিয়ে উপজেলার মমিনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

 

আ’বিমা’র এ কৃষির রাজ্যে মধুপুরের গভীর অরণ্যে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠি গারো সম্প্রদায়ের বসবাস।

 

জানা যায়, আ’বিমা হল একটি আচিক বা গারো শব্দ। এর অর্থ মাটির মা। গারোরা ভারতের মেঘালয়সহ বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে জুম চাষ করতো। তাদের পূর্ব পুরুষেরা জুমের ফসল ফলনের দিক বিবেচনা করে মধুপুর অঞ্চলকে আ’বিমা হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। মাটির উর্বরতার কারণে তারা মধুপুরের মাটিকে আ’বিমা অর্থাৎ মাটির মা বলে থাকে। মধুপুর পাহাড়ি অঞ্চলে বসবাসকারী গারো জনগোষ্ঠীর ফসল কেটে ঘরে তোলার পর শস্য দেবতা ও ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে সম্মিলিতভাবে বিশেষ প্রার্থনা ও নাচ গানের মধ্য দিয়ে প্রতিবছর আ’বিমা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন। এ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গারো জনগোষ্ঠীর আদি সংস্কৃতি ও সভ্যতা সবাইকে স্মরণীয় করিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যেই এ আ’বিমা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গারো নারী-পুরুষ ও শিশু-কিশোর তাদের আদি ঐতিহ্যবাহী পোশাক পরে ও সেজেগুজে অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত করে তুলেন। আ’বিমা মেলা হয়ে উঠে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী সম্প্রদায়ের প্রাণের মেলবন্ধন।

 

এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন আ’বিমা কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফোরামের সভাপতি অজয় এ মৃ ।

 

প্রলয় নকরেকের সভাপতিত্বে এসময় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রেমন্ড আরেং, ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এডভোকেট ইমদাদুল হক সেলিম, সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশীদ হারুন, মধুপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান যষ্ঠিনা নকরেক, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, আচিক মিচিক সোসাইটির সভাপতি সুলেখা ম্রং প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ব্যান্ডদল শিল্পী আচিক ব্লুজ, ব্রিং, দি রাবুগা, ব্লিডিং ফর সারভাইভাল ও স্থানীয় সঙ্গীত শিল্পী বৃন্দ।

 

ওজি