তৌফিকুর রহমান: ঝড়ে পড়া সুপারি গাছের পাতা যন্ত্রের সাহায্যে পরিবেশ বান্ধব বাহারী সব পন্য তৈরি করছেন তরুন উদ্যোক্তা নাহিদ হাসান। পরিত্যাক্ত ও ঝড়ে পড়া সুপারি পাতা পন্য প্লাস্টিকের বিকল্প এ পন্য তৈরি করে ব্যাপক সারা ফেলে এলাকায়। শতভাগ প্রাকৃতিক, বায়োডেগ্রেডেবল, কেমিক্যাল ও প্লাস্টিক মুক্ত, কম্পোস্টেবল এবং ডিসপোজেবল পণ্য হওয়ায় স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতন মানুষের কাছেও দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিদেশী রপ্তানি হবে এসব পন্য।
- তবে প্লাস্টিকের সহজলভ্যতার কারণে সর্ব মহলে আশানুরুপ বিক্রি করতে পারছেন না। আর সরকারি কর্তৃপক্ষ বলছে পরিবেশবান্ধব এ পণ্যটির প্রসার ও জনপ্রিয় করতে কাজ করবেন তারা।
পরিবেশ বান্ধব কিছু করার ইচ্ছা থেকেই এসব পণ্য তৈরির উদ্যোগ নেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার বাগবাড়ী গ্রামের যুবক নাহিদ হাসান। বছরখানেক আগে প্রায় ১০ লাখ টাকায় ভারত থেকে মেশিন এনে এলাকায় কারখানা স্থাপন করেন তিনি। বর্তমানে তার তৈরি করা এসব পন্য দেশ ও বিদেশেও মিলছে সাড়া।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সুপারি গাছের এসব ঝরে পড়া এই ফেলনা পাতা আর ফেলনা নয়। ধুয়ে-মুছে যন্ত্রের ছাঁচে ফেলে নির্দিষ্টমাত্রার তাপে তৈরি হচ্ছে ওয়ান টাইম প্লাস্টিক পণ্যের বিকল্প পণ্য। মেশিনের ৬টি ডাইসে ৬টি পন্য তৈরি করা যায়। এতে দিনে এক হাজার বিভিন্ন রকমের পন্য তৈরি করা হচ্ছে। আবার তৈরি করা এসব পন্যের রংঙের আচড় লাগানো হচ্ছে। তাতে পন্যটি দেখতে আরো সুন্দর দেখা যায়। এতে বেশি দামেও বিক্রি করা যায়। তার কারখানায় সুপারি গাছের পাতায় ১০ ইঞ্চির স্কয়ার প্লেট, রাউন্ড প্লেট, থ্রি পার্টিশন প্লেট, ট্রে, প্রিচসহ ৮ ধরনের পন্য তৈরি করা হয়। দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসব তৈরি পন্য দেখতে আসেন অনেকেই।
জানা গেছে, সুপারি গাছের পাতার এসব ক্রোকারিজ স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সচেতন চেইন রেস্টুরেন্ট মালিক ও ক্রেতাদের কাছে দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। এছাড়াও গায়ে হলুদ, জন্মদিনের মত অনুষ্ঠানসহ ঘর সাঁজাতেও ব্যবহার করা হচ্ছে এসব পণ্য। পন্য তৈরির এসব সুপারি গাছের পাতা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে সংগ্রহ করে আনতে হয়। এছাড়া এলাকার মানুষজনও সুপারির গাছের বাকল বা পাতা সংগ্রহ করে রেখে সেগুলো বিক্রি করছে কারখানায়। উদ্যোক্তা নাহিদসহ কারখানায় ৫জন কাজ করছেন। তবে রয়েছে হতাশাও। প্লাস্টিক পণ্যের সহজলভ্যতা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে সর্ব মহলে পরিবেশ বান্ধব এ পণ্যকে জনপ্রিয় করা যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ রয়েছে। প্লাস্টিকের ভয়াবহ দূষণ থেকে প্রকৃতি ও মানুষের স্বাস্থ্য রক্ষা করতে পরিবেশ বান্ধব এসব বিকল্প পণ্যের ব্যবহার ও প্রসার ঘটানোর তাগিদের পাশাপাশি ওয়ান টাইম প্লাস্টিকের পণ্য নিষিদ্ধের দাবী পরিবেশ ও স্বাস্থ্য সচেতনদের।
- স্থানীয়রা জানান, সুপারি গাছের বাকল বা পাতা জ¦ালানি হিসেবে ব্যবহার করা হতো। অথচ এগুলো দিয়ে এতো সুন্দর বাহারী রকমের পন্য তৈরি করা যায় সেটা ধারনা ছিল না। অনেক বেকার তরুন যুবকরা নাহিদের এমন উদ্যোগের সফলতা দেখে তারাও আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
কারখানায় কাজ করা শ্রমিকরা জানান, সুপারি গাছের পাতা ভালভাবে ধুয়ে পরিস্কার করার পর তা শুকাতে হয়। এরপর যন্ত্রের মাধ্যমে নিদিষ্ট তাপমাত্রা দিয়ে মেশিনের ফর্মায় তৈরি করা হয় বিভিন্ন আইটেমের প্রাকৃতিক এসব ওয়ানটাইমের পন্য।
তরুন উদ্যোক্তা ইকো বাজার কারখানার প্রতিষ্ঠাতা নাহিদ হাসান বলেন, টেক্সটাইল নিয়ে পড়াশুনা করে একটা চাকরি করতাম। করোনার সময় চাকরি ছেড়ে দিয়ে নিজে কিছু করার ইচ্ছে থেকে একজন উদ্যোক্তা হিসেবে নিজেই কারখানাটা করেছি। কারখানায় ৪জন কাজ করে। অনেক বেকার যুবক দেখতে এসে তারাও করার ইচ্ছে প্রকাশ করছে।
ভূঞাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বেলাল হোসেন বলেন, মানুষ ও প্রকৃতির জন্য উপকারী এসব পণ্যের প্রসার, প্রচার ও জনপ্রিয় করতে সব রকমের সহযোগীতা করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওজি
