বিশেষ প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের গোপালপুরে সরকারি নীতিমালা ভঙ্গ করে সড়ক বনায়নে লাগানো বৃক্ষ চারা গরু-ছাগলের পেটে চলে গেছে। ফলে সরকারের রাজস্ব খাতের বিপুল টাকা গচ্ছা গেছে বলে অভিযোগ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।

 

জানা যায়, উপজেলায় সড়ক বনায়ন কার্যক্রম দেখভাল করে টাঙ্গাইল বন বিভাগের আওতাধীন মধুপুর উপজেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। এবার উপজেলায় ৯ কিলোমিটার সড়কে বনায়ন করার কথা রয়েছে।

 

  • অভিযোগ রয়েছে, মধুপুর উপজেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা (ফরেস্টার) জুলহাস উদ্দীন দায়িত্বহীনতা আড়াল করার জন্য চারা লোপাটের বানোয়াট অভিযোগ এনে পুলিশ দিয়ে গ্রামবাসিকে হয়রানি করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে হয়রানি বন্ধ হয়।

 

উপজেলার হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার মোজাম্মেল হোসেন বলেন, এলাকাবাসীর সাথে চুক্তিপত্র স্বাক্ষরের পর সড়ক বনায়ন করার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু বন কর্মকর্তা জনপ্রতিনিধি বা স্থানীয় জনগনকে না জানিয়ে ভাদুড়িচর- নিয়ামতপুর হালট, মাহমুদপুর-পলশিয়া হালট, পলশিয়া-সেনেরচর হালটসহ ৬ কিলোমিটার গ্রামীন হালটে নিম্নমানের গাছের চারা রোপন করা হয়। এতে ৪-৫ ফিট উচ্চতা গাছের পরিবর্তে এক থেকে দেড় ফিট উচ্চতার চারা রোপন করা হয়। এছাড়া দক্ষ লেবার না নিয়ে স্কুলগামী শিশুদের দিয়ে চারাগুলো লাগানো হয়।

 

সাবেক ইউপি সদস্য কামরুল হাসান জানান, চারা রোপনের সময় সার, গোবর প্রয়োগ এবং জল সিঞ্চন করা হয়নি। গাছের সাথে শক্ত কোন খুঁটি দেয়া হয়নি। এছাড়া রোপনকৃত গাছগুলো দেখভালের জন্য একজন পাহারাদার নিয়োগ দিলেও বেতন না দেয়ায় সে কাজ ছেড়ে দিয়েছে। ফলে অযত্নে কিছু চারা মারা যায় এবং অবশিষ্ট গরু ছাগলের পেটে চলে গেছে।

 

  • হাদিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিলকিস জাহান জাহান, এটি কোন বনায়ন ছিলনা। কৌশলে সরকারি টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। এলাকায় একাধিক বড় পাকা সড়ক, বাঁধ বা খাস জমি পতিত থাকলেও সেখানে বনায়ন করা হয়নি। উপরন্তু গ্রামের ছোট ছোট হালটে গাছের চারা লাগানো হয়েছিল।

 

মধুপুর উপজেলা সামাজিক বনায়ন, নার্সারী ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কর্মকর্তা (ফরেস্টার) জুলহাস উদ্দীন জানান, সব নিয়ম মেনেই এসব হালটে বনায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু কেউ সহযোগিতা না করায় লাগানো চারাগুলো রক্ষা করা যায়নি। নভেম্বর মাস এসে গেছে। এখন আর নতুন করে চারা লাগানোর সুযোগ নেই। আগামী মে-জুনে এসব হালটে পুনঃবনায়ন করা হবে।

 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসফিয়া সিরাত জানান, ভারপ্রাপ্ত ফরেষ্টার জুলহাস উদ্দীনকে কয়েকদিন আগে বনায়ন সংক্রান্ত কাগজপত্রসহ অফিসে তলব করা হয়েছিল। বনায়ন নিয়ে নানা অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। পরে ওই সব স্থানে পুনরায় বনায়ন করবেন বলে জানানো হয়।

 

ওজি