ফরমান শেখ : টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে যমুনার চরাঞ্চলে এবার মুলার আবাদ যেমন বেড়েছে তেমনিই বেড়েছে বিক্রি। প্রতিদিন গড়ে যমুনা নদীর চরে লাখ টাকার মুলা বিক্রি করছে কৃষকরা। শীতের আগমনি বার্তা শুরু হওয়ায় বেচা-বিক্রি বেড়েছে মুলার। এবছর আবহাওয়া অনূকূলে থাকায় দুর্গম চরাঞ্চলে পাতা মুলার চাষ হয়েছে ব্যাপক। ফলে মুলার সবজি বিক্রি করে স্বাবলম্বি হচ্ছে তারা।

 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার অর্জুনা ও গাবসারা চরাঞ্চলের কৃষকরা মুলা নৌকাযোগে সকালে নলিন ও কুঠিবয়ড়া বাজারে নিয়ে আসেন। পরে পাইকাররা কৃষকদের কাছ থেকে দরদাম করে কিনে নিচ্ছেন।

 

জানা গেছে, উপজেলার যমুনা নদী চরাঞ্চলের এসব মুলা উপজেলার গোবিন্দাসী, পাথাইলকান্দি, কুঠিবয়ড়া, নলিন বাজারে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পাইকাররা দামদর করে কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছে। এরপর মুলা বিভিন্ন জায়গায় চলে যাচ্ছে।

 

  • গাবসারা ইউনিয়নের বাসুদেবকোল গ্রামের কৃষক রহিজ উদ্দিন বলেন, নদীতে এবার অনেক চর জেগেছে। জেগে উঠা জমিতে মুলার বীজ রোপন করেছিলাম। কোন ধরণের কীটনাশক ছাড়াই মুলা চাষ ভাল হয়েছে। স্থানীয় হাটে নিয়েও বিক্রি করতে হচ্ছে না। সবজি পাইকাররা বাড়িতে এসে মুলা কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

 

শুশুয়া গ্রামের কৃষক রতন আলী বলেন, প্রতিদিন চর থেকে মুলা উঠিয়ে ভোরে নলিন বাজারে ৫০০ আঁটি মুলা এনেছিলাম। ভূঞাপুর কাঁচা বাজারের এক সবজি বিক্রেতা ১২’শত টাকা দরে কিনে নিয়েছেন।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আরিফুর রহমান বলেন, যমুনা নদীর পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে মাঠ পর্যায়ে চরাঞ্চলের কৃষকদের নিয়ে সবজি চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করা হয়। যে কারণে এবার মুলার ফলন হয়েছে বেশি। অল্প সময়ে কম পুঁজিতে বেশি লাভ হয় বলে চাষিরা মুলা চাষ করেছেন। কৃষকরা এবার বেশ ভাল দামও পেয়েছেন। এছাড়া অন্যান্য শাকসবজি চাষাবাদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

 

ওজি