নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় শীতের মধ্যে গরু চোরের উৎপাত বেড়েছে। বিশেষ করে প্রায়ই জেলার যমুনা নদীর দুর্গম চরাঞ্চলের গরু চুরি ঘটনা বেশি ঘটে বলে এমন খবর পাওয়া যাচ্ছে। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছোট-বড় গরু খামারিরা। চুরি ঠেকাতে রাত জেগে পাহাড়া দিচ্ছেন তারা।

 

সম্প্রতি জেলার ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রামে একাধিক বাড়িতে গরু চুরি করতে আসে চোরচক্র। পরে লোকজনের টের পেয়ে পালিয়ে যায়। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় রাত্রীযাপন করছেন গরু খামারীরা।

 

কয়েড়া গ্রামের গরু খামারি মহর আলী বলেন, শীতের মধ্যে চোরের উৎপাত অনেক বেড়ে গেছে। প্রায়ই গরু চোরদের হানা আসে। চোরের যন্ত্রণায় রাতে ঠিকমতো ঘুমানো যায় না। এখন রাতে পাহাড়া দিতে হচ্ছে।

 

এদিকে, গত সোমবার ২২ জানুয়ারি সকালে জেলার কালিহাতী উপজেলার সল্লা বটতলা এলাকা থেকে চোর সন্দেহে তিনটি গরু ও ট্রাক দুইজনকে আটক করে পুলিশে দেয় স্থানীয়রা। এসময় অপর একজন পালিয়ে যায়।

 

আটককৃতরা হচ্ছেন কালিহাতী উপজেলার গোহালিয়াবাড়ী মধ্যপাড়ার আব্দুল লতিফের ছেলে আব্দুল্লাহেল কাফী ও পাশ^বর্তী এলাকার সরাতৈল পূর্বপাড়ার আনোয়ার হোসেনের ছেলে জিয়া।

 

এ ঘটনায় কালিহাতী থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মনিরুজ্জামান শেখ জানান, আটকের বিষয়ে খবর পেয়ে গরু, ট্রাক ও দুই ব্যক্তিকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পরে যাচাই বাছাই শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

 

এরপর গরু মালিকের সন্ধ্যান চেয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেয় থানা কর্তৃপক্ষ। পরে ফেসবুকে গরু উদ্ধারের পোস্ট দেখে গরুর মালিক থানায় যোগাযোগ করলে যাচাই বাছাই শেষে প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ।

 

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. নাজমুল হাসান জানান, স্থানীয়দের সহযোগিতায় সম্প্রতি সেতু পূর্ব থানাধীন মহাসড়েকর বিয়ারামারুয়া এলাকা থেকে মালিকবিহীন দুইটি গরু উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরে প্রকৃত মালিকের সন্ধ্যান চেয়ে ফেসবুকে পোস্টের পর গরুর মালিক খুঁজে পাওয়া যায়।

 

ভূঞাপুর থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আহসান উল্লাহ্ বলেন, গরু চুরিসহ সবধরণের অপরাধমূলক কর্মকান্ডরোধে আমাদের বিশেষ টিম সার্বক্ষণিক বিভিন্ন এলাকায় টহল দিচ্ছে। এ ধরণের কোনো খবর পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ওজি