কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী রুনা লায়লা। স্রষ্টা যাকে দিয়েছেন কণ্ঠ দিয়ে একটি নয়, দুটি নয় তিন তিনটি ভূখন্ড শাসন করার ক্ষমতা। আজ ১৭ নভেম্বর তার জন্মদিন। সত্তরে পা রাখলেন তিনি। তবে রুনা লায়লা মনে করছেন তার বয়স বাড়েনি। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন তার বয়স ১৭। এবার জানালেন ওখানেই আটকে আছেন তিনি।

 

সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি। গত বছর বলেছিলেন, আপনার বয়স ১৭ বছর। এবার বাড়ল, নাকি ওখানেই থেমে আছে?এ প্রশ্নের উত্তরে রুনা লায়লা বলেন, কোনো বয়স বাড়েনি। বয়স আমার ওখানেই (১৭) আটকে আছে (হাসি)।

 

বয়স ধরে রাখার ধরে রাখার রহস্য প্রসঙ্গে কিংবদন্তি এ গায়িকা বলেন, মনটায় তারুণ্য ধরে রাখলে বয়সও আটকে থাকে। খুবই সিম্পল হিসাব (হাসি)।

 

আজ ১৭ নভেম্বর সকালে কলকাতা পৌঁছেছেন রুনা লায়লা। সেখানে কোক স্টুডিও কনসার্টে গাইতে। ১৮ নভেম্বর গাওয়ার কথা। তাই জন্মদিন সেখানেই কাটছে গায়িকার। তিনি বলেন, তা ছাড়া উপায় নেই। অনেক আগে থেকেই এ অনুষ্ঠান নিয়ে কথা হচ্ছিল। তাই জন্মদিনের টেলিভিশন অনুষ্ঠান ঢাকায় অগ্রিম রেকর্ড করে এসেছি। চ্যানেল আই বিশেষ অনুষ্ঠান তৈরি করেছে।

 

মাত্র ১২ বছর বয়সে পাকিস্তানের ‘জুগনু’ সিনেমার একটি গানে কণ্ঠ দেওয়ার মাধ্যমে পেশাদার সংগীতশিল্পী হিসেবে যাত্রা শুরু করেন তিনি। ওই অল্প বয়সেই তার কণ্ঠে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন পশ্চিম পাকিস্তানের সংগীতজ্ঞরা। ফলস্বরূপ সিনেমার গানে নিয়মিত হন তিনি। অল্প সময়েই পশ্চিম পাকিস্তানের শ্রোতাপ্রিয় গায়িকায় পরিণত হন। স্বাধীনতা পরবর্তী সময় রুনা লায়লা যখন বাংলাদেশে ফিরে আসেন তখন পাকিস্তানে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে অবস্থান করছিলেন তিনি। দেশটির সরকারও তাকে ধরে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা করছিল। কিন্তু নাড়ির টান পেয়ে বসেছিল তাকে। জনপ্রিয়তা, ক্যারিয়ার, সম্মান— সব তুচ্ছ করে ফিরে আসেন প্রিয় মাতৃভূমিতে।

 

বাংলাদেশে এসে সংগীতে পথচলাটা তিনি শুরু করেন সংগীত পরিচালক সত্য সাহার হাত ধরে। এরপরের গল্প শুধু জয়ের আর অর্জনের। সে গল্প সবার জানা। ‘দামা দাম মাস্ত কালান্দার’ থেকে শুরু করে ‘ও কি গাড়িয়াল ভাই’— সর্বত্র সুরের মুগ্ধতা ছড়িয়ে গেছেন তিনি।