নিজস্ব প্রতিবেদক: টাঙ্গাইলে প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয়ের আদেশ অমান্য করে সরকারি শিক্ষক সমিতির বানারে অবৈধ বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

শনিবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০ টা থেকে সাড়ে ১১ টা পর্যন্ত এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

 

আয়োজকরা বলেছেন, কৃষিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনায় মেধা যাচাই এর জন্য জেলায় এ বৃত্তি পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।

 

অন্যদিকে সাধারণ শিক্ষকরা বলছেন চাকুরি বিধি অমান্য করে ফরম বিক্রির নামে লাখ লাখ টাকা বাণিজ্য করতেই এ অবৈধ কার্যক্রম। জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনহত ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক।

 

জানা যায়, ২০২২ সালের ৮ আগষ্ট প্রাথমিক ও গণ শিক্ষা মন্ত্রনালয় আদেশের মাধ্যমে বৃত্তি পরীক্ষা বন্ধ ঘোষণা করেছে। এছাড়া চাকুরি বিধি ১৭(১) ধারা মোতাবেক কোন শিক্ষক বৃত্তি আয়োজন ও কোচিং বাণিজ্যে জড়িত থাকতে পারবে না। সরকারি বিধি ও আইন অমান্য করে টাঙ্গাইলে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গোল্ড মেডেল টাঙ্গাইল শাখা বৃত্তি পরীক্ষা। জেলার সাতটি উপজেলার প্রাথমিকের প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী ১৫০ টাকা দিয়ে ফরম ক্রয়ের মাধ্যমে এতে অংশ গ্রহণ করে।

 

অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাদের ফরম ক্রয় করে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণে উদ্বুদ্ধ করেন। সাইফুল ইসলাম ও রুমানা বেগম নামের দুই অভিভাবক জানান, শিক্ষক সমিতি ও স্কুলের শিক্ষকদের মাধ্যমে তারা জানতে পেরেছেন। ১৫০ টাকা করে ফরম কিনেছেন। বিষয়টি সরকারি নির্দেশ অমান্য কিনা তারা কিছুই জানেন না।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুহা. সাজ্জাদুর রহমান খোশনবীশ বলেন, অবৈধ বৃত্তির ফরম বিক্রি ও পরীক্ষা বন্ধে লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর কোন পদক্ষেপ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। আইন পরিপন্থী কাজের নিন্দা জানানোর পাশাপাশি জড়িতদের শাস্তি কামনা করি।

 

বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গোল্ড মেডেল বৃত্তির টাঙ্গাইল শাখার আয়োজক কমিটির সভাপতি এমরান হোসেন  বলেন, কৃষিমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশনায় মেধা যাচাই করতে এ বৃত্তির আয়োজন করা হয়েছে। জেলার টাঙ্গাইল সদর, ঘাটাইল, মধুপুর, ভূঞাপুর, গোপালপুর, কালিহাতী ও দেলদুয়ারে নেয়া হয়েছে। বাকি পাঁচ উপজেলায় শিক্ষক না থাকায় এ বছর পরীক্ষা নেয়া হয় নাই।

 

তিনি আরও বলেন, আমি সরকারি চাকরি করলেও আমার সংগঠনটি বেসরকারি। সেই বেসরকারি সংগঠন থেকে এ পরীক্ষার আয়োজন করা হয়েছে।

 

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সুব্রত কুমার বণিক বলেন, আমরা তাদের নিষেধ করেছি। এছাড়াও উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিতো করেছি। সরকারি নির্দেশনা না মেনে যারা পরীক্ষা নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেউ দায়িত্ব পালন করলে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে তালিকা করতে বলেছি।

 

জেলা প্রশাসক মো. কায়ছারুল ইসলাম বলেন, আয়োজকরা টাঙ্গাইল কালেক্টরেট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ আয়োজন করতে চেয়েছিলেন। আমরা তাদের কোন অনুমতি দেইনি। এ বিষয়ে কথা বলে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে পাওয়া যায়নি।

 

ওজি